গাজা: এক খোলা কারাগারে বাস করছে লাখো মানুষ
২০০৭ সাল থেকে আজ পর্যন্ত গাজা উপত্যকা যেন এক খোলা আকাশের নিচে কারাগারে পরিণত হয়েছে। যেখানে জীবন চলছে, কিন্তু স্বাধীনতা নেই; শিশু জন্ম নিচ্ছে, কিন্তু ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত।
🔥 কীভাবে শুরু হলো এই অবরোধ?
২০০৬ সালে ফিলিস্তিনি নির্বাচনে ইসলামপন্থী দল হামাস বিজয় অর্জন করে। এরপর ২০০৭ সালে হামাস গাজার পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নেয়। এই রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রতিক্রিয়ায় ইসরায়েল এবং মিশর গাজার চারপাশে কঠোর অবরোধ আরোপ করে।
🚧 গাজার চারপাশে দেয়াল নয়, কিন্তু বন্ধ দরজা
এই অবরোধে গাজার মানুষ:
- মুক্তভাবে চলাফেরা করতে পারে না,
- শিক্ষা, চিকিৎসা, খাদ্য—সব কিছুর ওপর নির্ভর করতে হয় বাইরের সাহায্যের ওপর,
- তাদের নিজস্ব সমুদ্রেও মাছ ধরার স্বাধীনতা নেই।
💣 একের পর এক যুদ্ধ
২০০৮ থেকে শুরু করে ২০২৫ সাল পর্যন্ত গাজার ওপর ইসরায়েলি বাহিনীর একাধিক সামরিক অভিযান হয়েছে:
- বোমা হামলায় স্কুল, হাসপাতাল, আবাসিক ভবন ধ্বংস হয়ে গেছে।
- হাজার হাজার নিরীহ মানুষ নিহত হয়েছে, যাদের বড় অংশই শিশু ও নারী।
- প্রতিবার যুদ্ধ শেষে গাজা পড়ে থাকে ধ্বংসস্তূপে।
😢 মানবিক বিপর্যয়: সংখ্যার বাইরে যন্ত্রণার গল্প
- গাজার ৮০% মানুষ সাহায্যের ওপর নির্ভরশীল।
- দিনে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বেশিরভাগ সময় বিদ্যুৎ থাকে না।
- বিশুদ্ধ পানির অভাব চরম আকার ধারণ করেছে।
- হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসা সামগ্রী নেই, চিকিৎসকরাও আতঙ্কে কাজ করেন।
শিশুরা জন্ম নিচ্ছে ভয় আর বোমার শব্দে। তারা কখনো নীরব আকাশ দেখেনি, শুধু যুদ্ধবিমান।
🌍 বিশ্বের নীরবতা, গাজার কান্না
জাতিসংঘ, মানবাধিকার সংস্থা ও বিভিন্ন রাষ্ট্র বারবার গাজার মানবিক সংকট নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করলেও বাস্তব পরিবর্তন খুব কমই দেখা যায়। গাজা যেন আন্তর্জাতিক রাজনীতির দাবার গুটি, যেখানে মানুষ শুধু সংখ্যা।
📣 আমাদের করণীয়?
গাজার মানুষদের জন্য শুধু সহানুভূতিই যথেষ্ট নয়। দরকার সচেতনতা, আওয়াজ তোলা, এবং মানবিক সহায়তা। আমরা যদি আমাদের কণ্ঠ মিলিয়ে বলতে পারি—“গাজাও বাঁচতে চায়”, তবে হয়তো কোনো দিন সূর্য উঠবে গাজার আকাশেও।
🏷️ পরিশেষে…
গাজা শুধু একটি ভূখণ্ড নয়, এটি প্রতিরোধ, মানবিকতা এবং আশা হারিয়ে না ফেলার গল্প।



Leave a comment