বর্তমান সময়ে সামাজিক মাধ্যম—যেমন ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, টিকটক, ইউটিউব—হয়ে উঠেছে আমাদের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। ঘুম থেকে উঠে প্রথম কাজ, ঘুমাতে যাওয়ার আগে শেষ কাজ—স্মার্টফোন স্ক্রল করা।
কিন্তু একবার কি ভেবে দেখেছি, এই ডিজিটাল স্ক্রলিংয়ের পেছনে আমরা কী হারিয়ে ফেলছি?
🧠 মস্তিষ্কের অপচয়: যখন মেধা বসে থাকে ফেসবুকে
সাম্প্রতিক এক গবেষণা অনুযায়ী, একজন মানুষ গড়ে দিনে ২.৫ থেকে ৩ ঘণ্টা সময় ব্যয় করে সামাজিক মাধ্যমে। এর মধ্যে তরুণরা (১৮-৩০ বছর বয়সীরা) এই সময় ব্যয় করে ৫ ঘণ্টারও বেশি!
এত সময় ব্যয় করার মানে হলো:
- আমাদের মনোযোগের ক্ষমতা কমে যাচ্ছে
- ডোপামিন রিওয়ার্ড সিস্টেম ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে
- আমরা দীর্ঘ সময় কোনো কাজে মনোযোগ ধরে রাখতে পারছি না
- সৃজনশীলতা ও বিশ্লেষণ ক্ষমতা ধীরে ধীরে নিস্তেজ হয়ে পড়ছে
একটি ছোট উদাহরণ দিই:
আপনি যদি প্রতিদিন ৩ ঘণ্টা সামাজিক মাধ্যমে কাটান, তাহলে বছরে প্রায় ১,০৯৫ ঘণ্টা, মানে প্রায় ৪৫ দিন! এই সময় আপনি নতুন স্কিল শিখতে পারতেন, ব্যবসা শুরু করতে পারতেন, কিংবা পরিবারের সঙ্গে মানসম্পন্ন সময় কাটাতে পারতেন।
📉 ক্ষতির ধরণ: বাইরে থেকে চকচকে, ভেতরে ফাঁপা
সামাজিক মাধ্যমে কাটানো অতিরিক্ত সময়ের ফলে দেখা দিচ্ছে আরও কিছু ভয়ঙ্কর প্রভাব:
- Comparative anxiety: অন্যের লাইফস্টাইল দেখে নিজের জীবনকে ছোট মনে করা
- Sleep disorders: রাত জেগে স্ক্রলিংয়ের কারণে ঘুমে সমস্যা
- Decision fatigue: মস্তিষ্কে একসাথে অতিরিক্ত তথ্য ঢুকলে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা হ্রাস পায়
- Instant gratification mindset: আমরা ধৈর্য হারিয়ে ফেলছি, শুধু তাৎক্ষণিক আনন্দ চাই
🧩 বিকল্প কী হতে পারে?
প্রযুক্তিকে বাদ দিয়ে দেওয়া সম্ভব নয়, তবে নিয়ন্ত্রণ আমাদের হাতেই। কিছু কার্যকর উপায় হতে পারে:
✅ ডিজিটাল ডায়েট: প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময় সামাজিক মাধ্যমে কাটানো
✅ ডিপ ওয়ার্ক টাইম: নিরিবিলি সময় বেছে নিয়ে ফোকাসড কাজ করা
✅ নোটিফিকেশন বন্ধ রাখা: অপ্রয়োজনীয় ব্যাঘাত এড়াতে
✅ রিয়েল লাইফ কানেকশন: পরিবারের সঙ্গে, প্রকৃতির মাঝে সময় কাটানো
✅ নতুন স্কিল শেখা: বই পড়া, কোর্স করা, ফ্রিল্যান্সিং শিখা ইত্যাদি
🧠 প্রযুক্তি নয়, নিয়ন্ত্রণহীনতা আসল সমস্যা
আমরা সবাই এক ধরণের ডিজিটাল আসক্তির ভেতর দিয়ে যাচ্ছি। কিন্তু সব হারানোর আগেই থামতে হবে।
সামাজিক মাধ্যম আমাদের মস্তিষ্ককে নিয়ন্ত্রণ করছে না—আমরাই তাকে নিয়ন্ত্রণ করবো।
আজকের দিনে দাঁড়িয়ে, মেধা ও সময়ই সবচেয়ে বড় সম্পদ।
তাই আসুন, নিজের জীবনের নিয়ন্ত্রণ ফিরিয়ে নিই।
✊ বিদ্রোহ শুরু হোক নিজের সঙ্গে!



Leave a comment