সত্যের সন্ধানে, ভবিষ্যতের পথে

আজকের ইসরায়েল রাষ্ট্রের জন্ম হয় ১৯৪৮ সালে, যখন ব্রিটিশ শাসনের অবসানের পর ফিলিস্তিনের জমিতে ইহুদি রাষ্ট্র গঠিত হয়। এর পেছনে ছিল ব্রিটেন ও তার মিত্রদের সহায়তা। এই রাষ্ট্র গঠনের ফলে বহু ফিলিস্তিনি মানুষ নিজেদের ঘরবাড়ি থেকে উৎখাত হন — ফিলিস্তিনিরা যাকে বলেন “আল নাকবা” বা “বিপর্যয়”।

ব্রিটিশ শাসন ও বালফোর ঘোষণাপত্র

এক সময় ফিলিস্তিন ছিল অটোমান সাম্রাজ্যের অংশ। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর অটোমানরা হেরে গেলে ব্রিটিশরা এই অঞ্চল নিয়ন্ত্রণে নেয়। ১৯১৭ সালে ব্রিটেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বালফোর একটি চিঠিতে বলেন যে তারা ফিলিস্তিনে ইহুদিদের জন্য একটি “জাতীয় আবাসভূমি” চায়। তবে এই চিঠিতে সেখানে বসবাসকারী আরবদের রাজনৈতিক অধিকার নিয়ে কিছু বলা হয়নি।

ইসরায়েলের জন্ম ও প্রথম যুদ্ধ

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ইউরোপে ইহুদিদের উপর নাৎসিদের চালানো গণহত্যার (হলোকাস্ট) পর, বহু ইহুদি ফিলিস্তিনে অভিবাসন শুরু করেন। ১৯৪৭ সালে জাতিসংঘ ফিলিস্তিনকে দুটি অংশে ভাগ করার প্রস্তাব দেয় — একটি ইহুদি ও একটি আরব রাষ্ট্রের জন্য। আরবরা এই সিদ্ধান্ত মেনে নেয়নি।

১৯৪৮ সালের ১৪ মে ইসরায়েলের স্বাধীনতা ঘোষণা করা হয়। পরদিনই আরব রাষ্ট্রগুলো ইসরায়েলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে, কিন্তু ইসরায়েল সেই যুদ্ধে জিতে আরও বেশি জমি দখল করে নেয়। এতে প্রায় ৭ লাখ ফিলিস্তিনি তাদের বাসভূমি হারায়।

পিএলও এবং প্রতিরোধ

১৯৫৯ সালে ইয়াসির আরাফাতসহ কিছু নেতা কুয়েতে ফাতাহ গঠন করেন — যা পরে হয়ে ওঠে ইসরায়েলবিরোধী প্রতিরোধ আন্দোলনের কেন্দ্র। ১৯৬৪ সালে গঠিত হয় পিএলও (প্যালেস্টাইন লিবারেশন অর্গানাইজেশন)।

ছয়দিনের যুদ্ধ (১৯৬৭)

এই যুদ্ধে ইসরায়েল মাত্র ছয় দিনে মিশর, জর্ডান ও সিরিয়ার বিরুদ্ধে বিজয়ী হয়ে পূর্ব জেরুজালেম, পশ্চিম তীর, গাজা, গলান হাইটস এবং সিনাই মরুভূমি দখল করে নেয়।

অক্টোবর যুদ্ধ (১৯৭৩)

মিশর ও সিরিয়া ইসরায়েলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে, যা ইয়োম কিপুর যুদ্ধ নামে পরিচিত। যুদ্ধ শেষে যুক্তরাষ্ট্র মধ্যস্থতা করে একটি অস্ত্রবিরতি আনতে সাহায্য করে।

শান্তির চেষ্টা ও অসলো চুক্তি

১৯৯৩ সালে পিএলও নেতা ইয়াসির আরাফাত ও ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী ইৎজহাক রবিন একটি শান্তি চুক্তি (অসলো অ্যাকর্ড) স্বাক্ষর করেন। এর ফলে ফিলিস্তিনি স্বশাসন কর্তৃপক্ষ গঠিত হয়। ১৯৯৪ সালে ইসরায়েল ও জর্ডানের মধ্যে একটি শান্তিচুক্তিও হয়।

তবে ১৯৯৫ সালে এক ইসরায়েলি উগ্রপন্থীর হাতে রবিন নিহত হন, যা শান্তি প্রক্রিয়ার বড় ধাক্কা ছিল।

ইন্তিফাদা বা গণবিদ্রোহ

১৯৮৭-১৯৯৩ সালের প্রথম ইন্তিফাদায় ফিলিস্তিনিরা বিক্ষোভ, বয়কট ও সামান্য সহিংসতার মাধ্যমে ইসরায়েলি দখলের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ায়।

২০০০-২০০৫ সালের দ্বিতীয় ইন্তিফাদা ছিল আরও রক্তক্ষয়ী। ইসরায়েলি বাহিনীর হাতে হাজার হাজার ফিলিস্তিনি নিহত হয়, পাশাপাশি বহু ইসরায়েলিও প্রাণ হারায়। এই সময় দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানে মানুষের আস্থা কমে যায়।

মার্কিন সমর্থন ও ট্রাম্পের নীতি

২০১৬ সালে যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলের জন্য ৩৮ বিলিয়ন ডলারের সামরিক সাহায্য পরিকল্পনায় স্বাক্ষর করে — এটি ইতিহাসের সবচেয়ে বড় সামরিক সহায়তা চুক্তি। এরপর ট্রাম্প জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দেন, যা ফিলিস্তিনিদের ক্ষুব্ধ করে।

২০১৯-২০২০ সালে ট্রাম্প “ডিল অফ দ্য সেঞ্চুরি” নামে এক পরিকল্পনা ঘোষণা করেন, যা মূলত ফিলিস্তিনিদের অধিকারের বদলে অর্থ দেওয়ার প্রস্তাব — এবং কার্যত দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানকে শেষ করে দেয়।

Leave a comment

অর্গানিক হেয়ার অয়েল ব্যবহার করলে চুল পড়া কমে, চুল ঘন ও মজবুত হয়, এবং চুলের আগা ফাটা রোধ হয়। এটি মাথার ত্বককে ময়েশ্চারাইজড রাখে, খুশকি কমায় এবং চুলের প্রাকৃতিক উজ্জ্বলতা বাড়ায়। অর্ডার করুন

উক্তি

“ইনসাফ এবং কল্যাণকর একটি সমাজ বিনির্মানে এগিয়ে যাওয়াই আমাদের অঙ্গীকার”

~ সম্পাদক, বিদ্রোহীবাংলা

maintained by somykoron technologies