বিদ্রোহীবাংলা: আপনার সম্পর্কে কিছু বলুন?
মোঃ রুকনুজ্জামান সুজা – আমি মোঃ রুকনুজ্জামান সুজা, পেশায় একজন আইনজীবী। জন্ম উত্তর টাঙ্গাইলের ধনবাড়ী উপজেলার মুশুদ্দি বাজার ঝোপনার এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম কৃষক পরিবারে।স্থানীয় মুশুদ্দি বাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মুশুদ্দি আফাজ উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয় হতে এস এস,সি, ঘাটাইল ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজ হতে এইচ এস,সি এবং সর্বশেষ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় হতে এল এল, এম সম্পন্ন করে সর্বোচ্চ আদালত বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টে আইন পেশায় নিয়োজিত আছি। পেশা, রাজনীতিতে সময় দেওয়ায় মোটামুটি ব্যস্ততার মাঝেও অবসরে গুণী ব্যক্তিদের জীবনী, ইতিহাস পাঠ করে অবসর সময় কাটাই। এছাড়াও সোশ্যাল মিডিয়াতে সময় কাটাই।
বিদ্রোহীবাংলা: রাজনীতি ক্যারিয়ার সম্পর্কে আমাদের কিছু বলুন, কিভাবে রাজনীতিতে যুক্ত হলেন,কবে থেকে যুক্ত হলেন?
মোঃ রুকনুজ্জামান সুজা – শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান যখন শহীদ হন তখন আমি ছোট কিছু কিছু বুঝি। আমাদের বাড়িতে একটি রেডিও ছিল। সে সময় সকাল বেলা আমি বাড়ির বাহির পাশে দৌড়াচ্ছি। গ্রামের কিছু মানুষ খবর শুনছেন যখন জিয়াউর রহমানের মৃত্যু সংবাদ প্রচারিত হলো সেখানে উপস্থিত প্রায় সকলেই কান্না করেছিল। তখন থেকেই মনের অজান্তেই জিয়াউর রহমানের প্রতি ভালোবাসা জন্ম নেয়। আমার বাবা,চাচা সহ সকলেই বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির সর্মথক ছিলেন। আর বড় চাচা আমাদের ইউনিয়নে বিএনপি সংগঠিত করেছেন এবং নেতৃত্ব দিয়েছেন। পরিবারের লোকজনের কাছ থেকে জিয়াউর রহমানের সততার গল্প শুনে শুনেই বড় হয়েছি তাই এই দলের প্রতি ভালোবাসা ছিল অন্য রকম।স্বৈরাচার এরশাদ বিরোধী আন্দোলনে স্কুলে পড়াকালীন সময়ে টুকটাক মিছিলে অংশগ্রহণ করলেও ১৯৯৪ সাল থেকে ছাএদলের রাজনীতির মধ্যে দিয়েই রাজনৈতিক পথচলা।ওয়ার্ড থেকে শুরু করে ইউনিয়ন, উপজেলা ছাত্র দলের নেতৃত্ব দিয়েছি। রাজনীতি করতে গিয়ে দীর্ঘ সময় রাজবন্দী হয়ে টাঙ্গাইল জেলা কারাগারে আটক ছিলাম। বিগত স্বৈরাচার শেখ হাসিনার ১৬ বছর শাসন আমলে আদালত প্রাঙ্গণে খালেদা জিয়া, তারেক রহমান, ঢাকা মহানগর সহ সারা বাংলাদেশের নির্যাতিত বিএনপি নেতাকর্মীদের আইনি সহায়তার পাশাপাশি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে রাজপথে সক্রিয় ছিলাম। বর্তমানে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম কেন্দ্রীয় কমিটির সহ সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছি।
বিদ্রোহীবাংলা: আপনার সংসদীয় আসন সম্পর্কে আপনার মূল্যায়ন কি? এখানকার কোন কোন বিষয়গুলো আপনার ভালো লাগে?
মোঃ রুকনুজ্জামান সুজা – আমার সংসদীয় আসনটিকে আমি অত্যন্ত সম্ভাবনাময় বলে মনে করি। এখানকার যে প্রাণবন্ততা, মানুষের মধ্যে যে অসাম্প্রদায়িক চেতনা এবং আমাদের ঐতিহাসিক ভাওয়াল মধুপুরের গড়,কৃষি অর্থনীতি তা আমাকে মুগ্ধ করে। তবে, আমার মূল্যায়ন হলো, একটি বিশাল সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও এই আসনটি অবহেলিত। গত ১৭ বছর ধরে এই এলাকার মানুষের মৌলিক সেবা এবং গণতান্ত্রিক অধিকার: বিশেষত তরুণদের কর্মসংস্থান, মানসম্মত শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার দিক থেকে আমরা অনেক পিছিয়ে আছি। বর্তমান নেতৃত্বের ব্যর্থতা এই সম্ভাবনার পথে প্রধান বাধা।
মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসেবে আমার প্রধান লক্ষ্য হলো এই আসনটির মানুষের হারিয়ে যাওয়া ভোটাধিকার পুনরুদ্ধার করা এবং দুর্নীতিমুক্ত, স্বচ্ছ স্থানীয় সরকার নিশ্চিত করা। এই অঞ্চলের মানুষের ভালোবাসা এবং বিএনপি’র আদর্শকে পুঁজি করে আমি একটি স্বনির্ভর ও আধুনিক এলাকার স্বপ্ন দেখি। দল আমাকে সুযোগ দিলে, আমি জনগণের সেবক হিসেবে এই এলাকার সমস্যা সমাধানে অঙ্গীকারবদ্ধ থাকব।
বিদ্রোহীবাংলা: এমন কোন কিছু কি আছে যা আপনার কাছে দৃষ্টিকটু লাগে?
মোঃ রুকনুজ্জামান সুজা – বর্তমান সময়ে সপ্তাহে প্রায় অধিকাংশ দিন গণসংযোগে সময় কাটাচ্ছি। আমার দৃষ্টিতে অনেক কিছু দৃষ্টিকটু মনে হয় আমাদের সময়ে বা তারও আগে বিকাল হলে মাঠে-ঘাটে ফুটবল, হাডুডু, ক্রিকেট সহ বিভিন্ন ধরনের খেলা হতো। বলা যায় তরুণ সমাজ মাঠমুখী ছিল। সন্ধ্যার পর পড়ার টেবিলে চলে যেত এবং পরিবারের সকলে মিলে টেলিভিশনে সুস্থ বিনোদন উপভোগ করত কিন্তু বর্তমানে এই অবস্থায় নেই। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত তরুণ সমাজ থেকে শুরু করে সকল বয়সী মানুষ এলাকার বিভিন্ন মোড়ে মোড়ে টেলিভিশন, মোবাইলে বিভিন্ন গেমস খেলে সময় পার করে যা মানবিক মূল্যবোধ সম্পন্ন সমাজ গঠনের অন্তরায়। এটা আমার কাছে দৃষ্টিকটু মনে হয়।
বিদ্রোহীবাংলা: আপনি জনপ্রতিনিধি হবার সুযোগ পেলে কোন কোন বিষয়গুলোকে অগ্রাধিকার দিবেন?
মোঃ রুকনুজ্জামান সুজা – জনগণ যদি ভোটের মাধ্যমে আমাকে তাদের সেবা করার সুযোগ দেন তাহলে আমি যে তিনটি বিষয়ের উপর সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিব সেগুলো হল: শিক্ষা ও যুব উন্নয়ন: দেশ ও জাতির ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে তরুণদের উপর। প্রশিক্ষণের মাধ্যমে শিক্ষিত দক্ষ বিজ্ঞান ভিত্তিক উদার কর্মমুখী জনশক্তি গড়ার মাধ্যমে আমরা আমাদের প্রত্যাশার বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পারব। এজন্য প্রয়োজন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নির্মাণ, বিদ্যমান শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর অবকাঠামো উন্নয়ন, আধুনিক শিক্ষা প্রযুক্তির ব্যবহার, শিক্ষক কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা। স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন: জনগণের স্বাস্থ্য সেবার ক্ষেত্রে আমাদের দেশ অনেক পিছিয়ে আছে। এক্ষেত্রে আমাদেরকে ব্যাপক সংস্কার করতে হবে আপনারা জানেন যে, এ ব্যাপারে আমাদের নেতা জনাব তারেক রহমান যুক্তরাজ্যের আদলে আমাদের স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজানোর ঘোষণা দিয়েছেন। প্রতিবছর চিকিৎসা করতে গিয়ে শুধু আমার এলাকা নয় সারা দেশের কয়েক লক্ষ মানুষ নিঃস্ব হয়ে যাচ্ছে বা দারিদ্র্যসীমার নিচে চলে যাচ্ছে। আমাদের দেশে রোগ হলে মানুষ চিকিৎসার জন্য ছোটাছুটি করে, কিন্তু এমন রোগ আছে যেগুলো হওয়ার আগে যদি আমরা সচেতন হই তবে আমরা সেগুলো থেকে মুক্ত থাকতে পারি। বাচ্চাদের কিছু টিকা দেওয়া ছাড়া এমন সচেতনতা মূলক কোন পদক্ষেপ রাষ্ট্র বা হাসপাতালগুলোর তরফে নিতে দেখা যায় না। এক্ষেত্রে ব্যাপক উদ্যোগ নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। এছাড়া উন্নত চিকিৎসার ক্ষেত্রে আমার এলাকার হাসপাতাল গুলো ভালো চিকিৎসক, চিকিৎসা সরঞ্জাম, প্রয়োজনীয় ঔষধ ও অবকাঠামো গত দিক থেকে পিছিয়ে আছে। সুযোগ পেলে সংশ্লিষ্ট সবাই মিলে এসব সমস্যার সমাধানে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালাবো। অবকাঠামো গত উন্নয়ন ও পরিবেশ সুরক্ষা: একটি আধুনিক ও বাসযোগ্য এলাকার জন্য প্রাকৃতিক পরিবেশ অক্ষুন্ন রেখে উন্নত অবকাঠামো জরুরী। প্রয়োজনীয় রাস্তাঘাট নির্মাণের পাশাপাশি বিদ্যমান রাস্তাঘাটের সংস্কারের দিকে আমি গুরুত্ব দিব তাছাড়া বৃক্ষরোপণ, নদী ও খাল গুলোর সংস্কারের দিকে নজর দিব। আমাদের এলাকার জনগণ তাতে সহজে নিরাপদ পানীয় জল পেতে পারে সেদিকে আমার জোরালো প্রচেষ্টা থাকবে।
বিদ্রোহীবাংলা: আগামী ১০ বছর পর আপনি আপনার সংসদীয় এলাকা কে কিভাবে দেখতে চান?
মোঃ রুকনুজ্জামান সুজা – আগামী ১০ বছর পর আমি আমার সংসদীয় এলাকাটিকে কেবল একটি উন্নত এলাকা হিসেবে নয়, বরং গণতন্ত্র ও সুশাসনের একটি মডেল হিসেবে দেখতে চাই। আমার ভিশন তিনটি স্তম্ভের ওপর দাঁড়িয়ে:
১. অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতা: আমি চাই, এখানকার তরুণদের জন্য আর চাকরির খোঁজে অন্য শহরে যেতে না হোক। আগামী ১০ বছরে আমরা আধুনিক কৃষিভিত্তিক শিল্প এবং আইটি কেন্দ্র তৈরি করে লাখ লাখ কর্মসংস্থান সৃষ্টি করব।
২. সেবামূলক অবকাঠামো: সমস্ত গ্রামীণ সড়ককে পাকা করা হবে এবং প্রতিটি নাগরিক তার বাড়ির কাছেই মানের স্বাস্থ্যসেবা ও আধুনিক শিক্ষা পাবে।
৩. গণতন্ত্র ও সুশাসন প্রতিষ্ঠা: আমাদের প্রথম কাজ হবে মানুষের ভোটাধিকার ফিরিয়ে আনা। আগামী ১০ বছর পর এই এলাকার মানুষ ভয়মুক্ত পরিবেশে তাদের নেতা নির্বাচন করবে এবং স্থানীয় সরকার হবে সম্পূর্ণ দুর্নীতিমুক্ত ও জন-জবাবদিহিমূলক।
আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, বিএনপি’র আদর্শ ও জনগণের শক্তিকে সঙ্গে নিয়ে এই ভিশন বাস্তবায়ন করা সম্ভব।
বিদ্রোহীবাংলা: দেশের সার্বিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি সম্পর্কে আপনার মূল্যায়ন কি?
মোঃ রুকনুজ্জামান সুজা – দেশের সার্বিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি সম্পর্কে আমাদের মূল্যায়ন হলো, এটি একটি ইতিবাচক পরিবর্তনের সন্ধিক্ষণ।
ড. মুহাম্মদ ইউনূসের মতো একজন আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত, নির্দলীয় ও নিরপেক্ষ ব্যক্তিত্ব অন্তর্বর্তী সরকার প্রধান হিসেবে নির্বাচন অনুষ্ঠানে বদ্ধপরিকর হওয়ায় আমরা এই উদ্যোগকে আন্তরিকভাবে স্বাগত জানাই। আমরা মনে করি, এটি জাতির দীর্ঘদিনের দাবি ‘নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন’-এরই প্রতিফলন।
গত কয়েক বছর ধরে দেশে যে গণতন্ত্রহীনতা এবং ভোটাধিকার হরণের রাজনীতি চলেছে, এই অন্তর্বর্তী সরকার সেই অন্ধকার দূর করার প্রথম পদক্ষেপ। দেশের মানুষ একটি গ্রহণযোগ্য ও আস্থাশীল নির্বাচন কমিশনের অধীনে ভোট দিতে প্রস্তুত।
তবে, আমাদের মূল বার্তা হলো:
১. রাজনৈতিক পরিবেশ নিশ্চিত করা: সরকার পরিবর্তন হলেই কেবল হবে না। নির্বাচন সুষ্ঠু করতে হলে ড. ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকারকে অবশ্যই লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড (সবার জন্য সমান সুযোগ) নিশ্চিত করতে হবে। এর জন্য রাজনৈতিক কর্মীদের ওপর থেকে মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহার করতে হবে এবং গুম-খুনের সংস্কৃতির অবসান ঘটাতে হবে।
২. জনগণের আস্থা: ড. ইউনূসের নেতৃত্বে সরকারের সাফল্য নির্ভর করবে জনগণের ভোটাধিকার সম্পূর্ণভাবে পুনরুদ্ধার এবং নির্বাচন কমিশনকে পূর্ণ স্বাধীনতা দেওয়ার ওপর।
৩. বিএনপি’র প্রস্তুতি: আমরা প্রথম থেকেই একটি নিরপেক্ষ সরকারের দাবি জানিয়ে এসেছি। এই পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায় বিএনপি নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য সম্পূর্ণভাবে প্রস্তুত এবং জনগণের রায়ের মাধ্যমেই দেশে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে বদ্ধপরিকর। আমরা আশা করি, আগামী ফেব্রুয়ারির নির্বাচন একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক হবে।
বিদ্রোহীবাংলা: আমরা কেন এখনো একটি উন্নত দেশে পরিণত হতে পারিনি এ ব্যাপারে আপনার মূল্যায়ন কি?
মোঃ রুকনুজ্জামান সুজা – আমরা কেন এখনো একটি উন্নত দেশে পরিণত হতে পারিনি, এর মূল্যায়নে প্রথমেই স্বীকার করতে হবে যে বিগত কয়েক দশকে দেশের জনগণ তাদের মেধা ও শ্রমে অনেক দূর এগিয়েছে। কিন্তু একটি উন্নত, সমৃদ্ধ বাংলাদেশের স্বপ্ন অধরাই রয়ে গেছে। এর প্রধান কারণগুলো হলো:
১. গণতন্ত্রের অনুপস্থিতি ও সুশাসনের সংকট:
উন্নত রাষ্ট্রের ভিত্তি হলো গণতন্ত্র। যখন মানুষের ভোটাধিকার হরণ করা হয় এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার বদলে একদলীয় শাসন চাপিয়ে দেওয়া হয়, তখন দীর্ঘমেয়াদী টেকসই উন্নয়ন সম্ভব হয় না।
দুর্নীতি এখন সর্বব্যাপী। মেগা প্রজেক্ট থেকে শুরু করে সাধারণ প্রশাসন পর্যন্ত প্রতিটি স্তরে লাগামহীন দুর্নীতি দেশের সম্পদকে গুটিকয়েক মানুষের হাতে কুক্ষিগত করছে। এই দুর্নীতিই আমাদের উন্নত হওয়ার পথে প্রধান অন্তরায়।
২. অর্থনৈতিক অব্যবস্থাপনা ও প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতা:
ব্যাংকিং খাতে চরম বিশৃঙ্খলা, খেলাপি ঋণের পাহাড়, অর্থ পাচার—এসবই সরকারের অর্থনৈতিক অব্যবস্থাপনার ফসল। দুর্বল প্রাতিষ্ঠানিক নজরদারির কারণে এসব হচ্ছে।
বিনিয়োগের পরিবেশ তলানিতে। রাজনৈতিক প্রতিহিংসা, আইনের শাসনের অভাব এবং প্রশাসনিক জটিলতার কারণে দেশি-বিদেশী বিনিয়োগকারীরা মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে।
৩. মানবসম্পদের অব্যবস্থাপনা:
আমাদের বিপুল তারুণ্যকে আমরা কাজে লাগাতে পারিনি। মানসম্মত কর্মমুখী শিক্ষার অভাব এবং মেধা পাচার আজ প্রকট। সরকারের ভুল নীতির কারণে নতুন প্রজন্মের জন্য পর্যাপ্ত কর্মসংস্থান তৈরি হচ্ছে না।
বিদ্রোহীবাংলা: আপনি কি মনে করেন প্রতিশ্রুত সময়ে অর্থাৎ ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে?
মোঃ রুকনুজ্জামান সুজা – দেখুন দায়িত্বশীল ব্যক্তির পক্ষ থেকে যখন কোন কিছু প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয় তখন তো বিশ্বাস স্থাপন করতেই হবে। ইতিমধ্যে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান ডঃ মুহাম্মদ ইউনুস ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন করার ঘোষণা দিয়েছেন বিধায় আমি মনে করি ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। আর বর্তমানে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার পরিবেশ বজায় আছে। ইনশাআল্লাহ ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন হবে।
বিদ্রোহীবাংলা: আপনার ভোটারদের উদ্দেশ্যে কিছু বলুন?
মোঃ রুকনুজ্জামান সুজা – ভোটারদের উদ্দেশ্যে আমার একটাই বক্তব্য যেহেতু দীর্ঘ সময় পর তাদের ভোটের মাধ্যমে তাদের সেবক নির্বাচন করার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে তাই সৎ, এলাকার মাদক এবং চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে অবস্থানকারী, জনগণের আশা আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটাতে পারবেন এমন নেতৃত্বের প্রতি অবস্থান নেওয়ার জন্য আহ্বান থাকবে।
সম্পাদক – ধন্যবাদ আপনাকে |
মোঃ রুকনুজ্জামান সুজা – আপনাকেও ধন্যবাদ |



Leave a comment